পরিস্থিতি ‘গুরুতর’ মনে করেন ৪৬% মানবাধিকারকর্মী
23 July 2023দায়িত্ব পালনকালে মানবাধিকারকর্মীদের চ্যালেঞ্জ শীর্ষক সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) এক জরিপে অংশগ্রহণকারী ৪৬ শতাংশ মানবাধিকারকর্মী মনে করেন, দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ‘গুরুতর’। তবে দেশের ৩৬টি জেলা থেকে ৫০ জন উত্তরদাতাকে অন্তর্ভুক্ত করে পরিচালিত ওই গবেষণা প্রতিবেদনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদ।
গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘হু ডিফেন্ডস দ্য ডিফেন্ডার : দ্য প্রেডিকামেন্ট অব হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মানবাধিকারকর্মীরা সারা বিশ্বেই নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হন। বাংলাদেশ এর বাইরে নয়। মানবাধিকারকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার দায়িত্ব। তবে কিছু মানবাধিকারকর্মী এবং নির্দিষ্ট সময়ের ওপর পরিচালিত এ গবেষণা দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরার জন্য যথেষ্ট নয় বলে মনে করি।
অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক আলী রিয়াজ। প্রতিবেদনে বলা হয়, তৃণমূল পর্যায়ের ৮৬ শতাংশ মানবাধিকারকর্মী দায়িত্ব পালনকালে নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছেন। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের ৬২ শতাংশ মনে করে, মানবাধিকার নিয়ে কাজ করার পরিবেশ নিরাপদ নয়। সরকারি নানা সংস্থা ও কর্মকর্তার হুমকি, হয়রানি, ভয়ভীতির মতো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন ৪২.৩ শতাংশ মানবাধিকারকর্মী।
গবেষণায় অংগ্রহণকারী ২৩.৭ শতাংশ বলেছে, মানবাধিকারকর্মী নিপীড়নের অন্যতম উৎস ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বিচারব্যবস্থার প্রতি অনাস্থার কারণে (২৫.৫ শতাংশ), দুর্বৃত্তদের হাতে আক্রান্তের ভয়ের কারণে (২০.৫ শতাংশ), সুষ্ঠু তদন্ত হয় না বলে (১৭.৮ শতাংশ) এবং তদন্তকারী সংস্থার প্রতি অনাস্থার কারণে (১৫.১ শতাংশ) হুমকি ও নিপীড়নের বিষয়ে মানবাধিকারকর্মীদের কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করার নজির কম (৩৬ শতাংশ অভিযোগ করে না)।
অনুষ্ঠানে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না বলেন, দেশ এখন ব্যবসায়ী ও আমলাদের হাতে চলে গেছে, রাজনীতিবিদরা আর দেশ চালাচ্ছেন না।’
নিউএজ সম্পাদক নুরুল কবির বলেন, ‘মানবাধিকার কমিশনের প্রণীত সব নীতি সরকার অনুমোদন বা প্রয়োগ করতে বাধ্য নয়, এটি একটি সীমাবদ্ধতা। মানবাধিকারের বিষয়গুলো সুরক্ষিত করতে হবে, একে রাজনীতির সঙ্গে জড়ানো যাবে না।
কমিশনের বড় দুর্বলতা হচ্ছে, কমিশনের নির্দেশনা সরকার বাস্তবায়ন করতে বাধ্য নয়।’
ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ‘শুধু আইনগত কাঠামো থাকলেই হবে না, তার যথাযথ প্রয়োগও থাকতে হবে। শুধু ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের (ডিএসএ) সংশোধন নয়, বরং ঔপনিবেশিক আমল থেকে রয়ে যাওয়া আরো বিভিন্ন আইনেরও সংশোধন প্রয়োজন।
News Courtesy:
https://www.kalerkantho.com/print-edition/news/2023/07/23/1301326