"ভালো মেযেরা রাজনীতি করে না" এই সামাজিক বাক্যবদ্ধ কবে ভাঙবে?
রিয়ালি চাকমা | 28 October 2025
বাংলাদেশের সমাজ-সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন ধরে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে ঘিরে এক ধরনের প্রচলিত বাকাবন্ধ চালু আছে যে "ভালো মেয়েরা রাজনীতি করে না।" এই ধারণা কেবল নারীদের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশের পথে সামাজিক বাধা সৃষ্টি করেনি, বরং নারীর নেতৃত্ব ও ক্ষমতায়ন প্রসারের ক্ষেত্রেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর স্যাম্পল ভাইটাল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম (এসভিআরএস) এর মতে ১ জানুয়ারী ২০২৪ তারিখে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ১৭৩.৫২ মিলিয়ন, নারী ৮৮.৩৭ মিলিয়ন এবং পুরুষ ৮৫.৬৫ মিলিয়ন। অর্থাৎ নারী ৫০.৯১ শতাংশ ও পুরুষ ৪৯.০৯ শতাংশ, স্পষ্টতই নারী মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি। বিগত বদরগুলোতে সরকার, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগীতায় বিভিন্নক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়নকে উৎসাহিত করা হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, চাকুরীক্ষেত্র সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে নারীর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অনেকগুলো উদ্যোগ ও প্রকল্প নেয়া হয়েছে। কিন্তু রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে সরকারি বা বেসরকারি দৃশ্যমান কোন প্রকল্প বা পদক্ষেণ এখনো নজরে আসেনি। জুলাই গণ-অভুখ্যানের পর দেশে বিভিন্নক্ষেত্রে নানা ধরণের আলোচনা চলমান, এখানেও রাজনীতিতে নারীর অর্থপূর্ণ প্রতিনিধিত্বকে নিশ্চিত করার ব্যাপারে কোন আশাব্যঞ্জক আলোচনা বা পদক্ষেপ নেই। এই দেশে নারীরা রাজনীতিতে পা দিতে এখনো দ্বিধাবোধ করেন, বিশেষত যারা অরাজনৈতিক পরিবার থেকে রাজনীতিতে যুক্ত হতে চান।
"ভাল্যে মেয়েরা রাজনীতি করে না' এই প্রথাগত ধারণা আমাদের সমাজে গভীরভাবে প্রোধিক। কিছু খুবই "স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান যে নারীর রাজনৈতিক সক্রিয়তাকে হেয় করে দেখা হয়। বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের জন্য একজন নারী বাড়ির বাইরে দিবে প্রকাশ্যে সভা সমাবেশ করবেন এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করবেন এটি খুবই দুরুহ ব্যাপার। শত্রু পারিবারিক সমর্থন ছাড়া প্রায় অনাব। কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে যারা আসেন তাদের অধিকাংশই পারিবারিকভাবে আগে থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনের সাথে পরিচিত, তাদের পথ তুলনামূলকভাবে সহজ। কিন্তু যেসব তরুণীরা নতুন করে রাজনীতিতে যুক্ত হতে চান তাদের সথ ও কি সোজা? একবাক্যে এর উত্তর, না।
ঢাকান্ত নেদারল্যান্ড দূতাবাস এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গন্ডারন্যান্স স্ট্যাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত একটি কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরুণ নেতা ও কূটনীতিক একত্রিত হন গত বছরের ডিসেম্বরে। বাংলাদেশে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বিষয়ক এই কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা তাদের মতামত, পর্যবেক্ষণ ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এ আলোচনায় শুরুতেই উঠে আসে নারী রাজনৈতিক নেতাদের অনলাইনে হয়রানির বিষয়টি। উপস্থিত নারী নেত্রীরা তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা আনান, আগস্ট ২০২৪ এর পর থেকে অনলাইন প্লাটফর্ম ও অফলাইনে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এছাড়াও আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স এর মাধ্যমে বানানো ছবি, ভিডিও এবং তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করে চরিত্র হননের চেষ্টা করা হয় শুধুমাত্র তাদের আওয়াজ বন্ধ করতে। আলোচনার এক পর্বানে উঠে আসে গণ জাগরণ মঞ্চের লাকি আক্তারের নাম। তার ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বার বিভিন্ন পাবলিক গ্রুপে ঘড়িয়ে দেয়া হয় আপত্তিকর শিরোনাম দিয়ে ২০১৮ সালের কোটা বিরোধী আন্দোলনের সময়। এছাড়াও বিএনপির রুমিন ফারহানা জানান রাজনৈতিক আলোচনায় না পারলে বা তর্কে হেরে গেলে, তার ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবার টেনে এনে হেনস্তা করার চেষ্টা করা হয়। মোটের উপর আমাদের সমাজ নারীদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে হেনস্তা করতে দিদপা হয়না, সেটি কখনো নিজের পরিবার, সমাজ বা সহপাঠীদের মাধ্যমেও ঘটছে। মোটের উপর নারীরা ঘরের বাইরে এসে রাজনীতি করে না এই মত পরোক্ষভাবে আমাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত।
বর্তমানে নতুন পুরাতন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল "সংস্কার" নিয়ে খুবই সরব, কিন্তু জুলাই আন্দোলনের অন্যতম কান্ডারী নারীরা রয়ে গেছেন অস্বীকৃত ও অবহেলিত। সকলের জন্য সুরক্ষিত রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোতে কোন আলোচনা নেই। বিগত বছরগুলিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই নারী নেত্রী ১৯৯১ সাল থেকে ২০২৪ অবধি প্রায়ই দুই যুগের বেশি সময় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সকল পদে যেমন স্পিকার, আইন প্রণেতা, সেনা, নৌ ও পুলিশ বাহিনী, সচিব, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিচারক ইত্যাদি পদে আসীন হয়েছেন নারীরা।
১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯০ অনুচ্ছেদে সংশোধনী অনুযায়ী ২০২০ সালের মধ্যে সব রাজনৈতিক দলের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার কথা থাকলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। ভাই ২০২৫ সালের মধ্যে সকল রাজনৈতিক দলগুলোতে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব রাখার বিধানসহ পূর্ণাঙ্গ আইন করার জন্য আহ্বান জানানো হয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুইটি বড় ও প্রাচীন দল হিসেবে তারা কিছুটা হলেও অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রচলনে বিশ্বাসী বলে ধরে নেয়া হয়। এছাড়াও নব্য তিন রাজনৈতিক সংগঠন সহ, ইসলামী সংগঠন ইত্যাদি দলগুলো নারীর অংশগ্রহণকে স্বাগত জানালেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। রাজনীতিতে আওয়ামী নারী নেতৃত্ব ১৮ শতাংশ আর সেখানে বিএনপিতে নারীরা থাকছেন ১৫ শতাংশ এবং অন্যান্য দলগুলোর চিত্র আরো করুণ। বাংলাদেশে রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বে বাড়াতে সুপ্ত-সচেতন পারিবারিক আবহ, নারী শিক্ষা, নারীর সুরক্ষা, দলে নারী পুরুষের যোগ্যতার ভিত্তিতে সম মূল্যায়ন, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ইত্যাদি অপরিহার্য। কিন্তু অতীতের ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় সংসদের ৫০ টি সংরক্ষিত আসন যোগ্যতা ছাড়াই আত্মীয়, পারিবারিক পরিচয় এবং প্রভাবশালীদের মনোনীত করা হয়। সংসদে ও তাদের নির্বাচনী এলাকায় তাদের ভূমিকা নেই বললেই চলে। জুলাই পরবর্তী সময়ে সারাদেশে নারীর প্রতি সহনশীলতার ঘাটতি খুবই স্পষ্ট। বিশেষত ধর্ম ও সংস্কৃতির দোহাই দিয়ে বিভিন্ন সময় নারীদের কোণঠাসা করার ঘটনা পরিলক্ষিত হয়েছে। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও কোন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। বাংলাদেশে নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণে উল্লেখযোগ্য প্রতিবন্ধকতাসমূহ এখনো বহাল রয়েছে।
নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ পরিবার ও সমাজ নিরুৎসাহিত করে, কারণ তারা পিতৃতান্ত্রিক ধ্যানধারণার কারণে রাজনীতিকে নারীদের জন্য অনুপযুক্ত বলে মনে করে। এর পরেও যারা রাজনীতিতে আসেন তাদের প্রতিনিয়ত হেনস্তা করা হয় সামাজিক ও ধর্মীয় বিধিনিষেধের দোহাই দিয়ে। পারিবারিক ও সামাজিক সহায়তার অভাব নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণকে আরো সংকীর্ণ করে দেয়। এছাড়াও তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক কাজের জন্য কোনো অর্থ পরিবার বা রাজনৈতিক দল থেকে প্রদান করা হয় না, ফলে আর্থিক সংকট তৈরি হয় এবং পরিবারের পক্ষ থেকেও বাধা আসে। পুরুষদের ব্যক্তিগত সম্পদের উপর কর্তৃত্ব থাকার কারণে তারা নির্বাচনসহ রাজনৈতিক প্রচারণায় সহজে অংশগ্রহণ করতে পারে। কিন্তু নারীদের এই সুযোগ নেই।
আদিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারীরা কাঠামোগত বঞ্চনা ও সহিংসতার হুমকির মুখে পড়েন, যা তাদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ সীমিত করে। এছাড়া রাজনীতি নিয়ে প্রচলিত এক ধরনের অনীহা নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ সংকুচিত করে। এছাড়াও এদেশের সমাজ বাস্তবতায় নারীরা গৃহস্থালির দায়িত্বে অভিমায়ায় জড়িত থাকেন, যার ফলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সময় বা সুযোগ কমে যায়। এছাড়া নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনগুলো প্রায়ই দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে দেওয়া হয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে নয়। পুরুষ-প্রধান রাজনৈতিক পরিসরে প্রবেশ করা নারীদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাদের ভূমিকা সাধারণত পর্দার আড়ালে সীমাবদ্ধ থাকে, যেমন অনুষ্ঠান আযোজন বা ব্যবস্থাপনা, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণের সুযোগ তাদের নেই। রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীদের প্রতি পক্ষপাত ও অসার মূল্যায়নের কথা না বললেই নয়। নারীদের প্রায়ই "নারী শাখা"-তে সীমাবদ্ধ রাখা হয়, সেখানে নীতিনির্ধারণী ক্ষমতা বা রাজনৈতিক প্রভাব খুব কম থাকে। এক্ষেত্রে নারীদের যোগ্যতা বা দক্ষতার পরিবর্তে স্বজনপ্রীতি বা পারিবারিক সংযোগের ভিত্তিতে বিচার করা হয়।
অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতার শিকার নারী রাজনীতিবিদদের প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার অভাব বিষদভাবে পরিলক্ষিত হয়। রাজনৈতিক দল ও সরকার, সহিংসতার শিকার নারী রাজনীতিবিদদের জন্য সুরক্ষা বা সহায়তা দিতে ব্যর্থ হয়। প্রতিটি রাজনৈতিক সংগঠন দাবি করে যে তারা নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী, কিন্তু বাস্তবে নারীদের এগিয়ে আসার ক্ষেত্রে তাদের বিশেষ কোন পদক্ষেপ নেই। পুলিশসহ অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরাও নারীদের প্রতি যথেষ্ট সদয় নন। কোন নারী অভিযোগ দায়ের করতে গেলে তাদের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। কখনো কখনো আইনের বাইরে গিয়ে সমাধানের জন্য চাপ দেয়া হয়। এজন্যে অনেক নারীই রাজনৈতিক অঙ্গনে সহিংসভাকে অবধারিত বাস্তবতা হিসেবে মেনে নিয়েছেন এবং এর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর বদলে তাঁরা মেনে চলছেন। তারা ধরেই নিয়েছেন রাজনীতি করতে হলে অসম পরিবেশে বিভিন্ন বৈষম্য মেনেই কাজ করতে হবে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীরা পুরুষদের নেতৃত্বে চলবেন এই রীতিনীতিকে নারীরা তাদের জীবনের সভ্য বলে মেনে নিয়েছেন। নারীদের মধ্যে এই চিন্তাধারা নারীদের রাজনীতিতে প্রবেশে বড় বাঁধা।
বৈষম্যমূলক এই বাক্যবদ্ধ ভাঙতে আন্যদের করনীয়। এই নির্মম বাক্যবদ্ধ ভাঙতে সময় লাগবে, কেননা দেশের আর্থসামাজিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয় এখনো নারীদের অবাধ অংশগ্রহণকে রাগত আনাতে প্রস্তুত নয়। বিভিন্ন অংশীজনের প্রচেষ্টায় সমতার দিকে এই সমাজ এগিয়ে যাচ্ছে ঠিকই কিন্তু একটি অংশ এখনো এই পরিবর্তন মেনে নিতে নারাজ। এই প্রথাগত ধারণা ভাঙার জন্য কিছু বিষয় অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। সর্বপ্রথমে নারীর সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য শিক্ষাক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান নিয়ে, রাজনীতি নিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান অর্জনের সুযোগ দিতে হবে। এক্ষেত্রে সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোর এগিয়ে আসতে হবে। প্রান্তিকস্তরে নারীর ক্ষমতায়ন ও সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। নারী-পুরষের অর্থনৈতিক সমতা নিশ্চিত করতে হবে যেন নির্বাচন বা রাজনৈতিক প্রচারণায় নারীরা পুরুষদের থেকে পিছিয়ে না পড়ে। এজন্য দৃঢ় প্রশাসনিক নীতি ও সামাজিক সংস্কার আনা জরুরি।
সরকার, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ এবং বিভিন্ন অংশীজন মিলে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে যেটি নারীদের রাজনীতিতে প্রবেশকে স্বাভাবিকভাবে নিতে সাহায্য করবে ও অর্ন্তভূক্তিতে সহায়তা করবে। এধাড়াও আইনী ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নারীর প্রতি আরো সহনশীল হতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনাগুলিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও রাজনৈতিক সংগঠনের মাঝে যদি হেনস্তা বা সহিংসতা ঘটে থাকে তবে সাংগঠনিকভাবে কড়া পদক্ষেপ ও সহযোগীতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এতে করে রাজনীতিতে নারীদের প্রবেশ মুগম হবে।
যদিও বর্তমান পরিস্তিতি বিবেচনা করলে এসব অসম্ভবই মনে হয়। কিন্তু সবার যৌথ প্রচেষ্ঠায় পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী, সবাই মিলে প্রচেষ্টা করলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলে যাবে। বাংলাদেশে বর্তমানে নারী ক্ষমতায়ন অগ্রগতি (কোটা, শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্ব), সামাজিক পরিস্থিতির পরিবর্তন (মার্জিত মনোভাব, বাজেট বরাদ্দ) এবং ধর্ষণের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপেও দৃশ্যমানতা রয়েছে। সরকার ও বিভিন্ন অংশীজন নিরলসভাবে নারীর অংশগ্রহন ও ক্ষমতায়নকে উৎসাহিত ও সমর্থন করে যাচ্ছেন। কিন্তু এদেশের নারীরা কি সেই পরিবর্তন সানন্দে গ্রহণ করতে পারছেন। নাকি তাঁরা এখনো আবদ্ধ রয়েছেন প্রাচীন রীতি-নীতির শিকলে ও সেকেলে ধারায়? যাদের জন্য পরিবর্তনের প্রয়াস, তাঁরাই যদি পরিবর্তনকে গ্রহণ না করেন তবে এই সামাজিক বাক্যবন্ধ ভাঙা সম্ভব নয়।
এজন্য কেবল নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণই যথেষ্ট নয়; নারীরা যেন এই পরিবর্তনকে সানন্দে গ্রহণ করতে পারেন, সেজনা মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের প্রতিও বিশের গুরুত্বারোপ করা প্রযোজন। তবেই এই বাক্যবন্ধ ভেঙে নারীরা এগিয়ে যেতে পারবে সমাজের প্রতিটি ছার এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে তাদের যথাযথ অবস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।